
চোটে পড়ে লম্বা সময় ধরেই মাঠের বাইরে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার। তার জায়গায় সব আলো ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকে। যদিও বরাবরই হলুদ জার্সিতে সমর্থকদের হতাশই করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। চোটে পড়ে এবার ভিনিসিয়ুসও ছিটকে গেছেন, তাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিলি ও পেরু বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা রদ্রিগো।
অথচ রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের ছায়া হয়েই কাটাতে হয় তাকে। স্বদেশী সতীর্থের জন্য নিজের পছন্দের লেফট উইং পজিশনটাও ছেড়ে দিতে হয়েছে। ব্রাজিলে দলেও সেই একই কাজটাই করতে হয়। তবে পজিশন বদলালেও ব্রাজিল দলে রদ্রিগো ঠিকই সফল। অন্তত পরিসংখ্যান তাই বলে। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ গোল এসেছে রদ্রিগোর কাছ থেকেই।
এই সময়ে ব্রাজিলে বারবার কোচ বদল হলেও সব কোচের কাছেই সমান গুরুত্ব পেয়েছেন রদ্রিগো। যার পেছনের কারণ যে কোনো পজিশন আর পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। কখনো ফলস নাইনে খেলেছেন, আবার কখনো প্লেমেকারের ভূমিকায়। প্রয়োজনে রাইট উইংয়ের জায়গাটাও সামলিয়েছেন। তাতে কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে সবচেয়ে বেশিক্ষণ ব্রাজিলের জার্সিতে খেলার সুযোগটাও মিলেছে তার। সব মিলিয়ে ১৭ ম্যাচে ১৩৯৮ মিনিট মাঠে ছিলেন রদ্রিগো।
তাই বলা চলে চিলি ও পেরু ম্যাচ রদ্রিগোর জন্য বড় সুযোগই। নেই ভিনিসিয়ুস, তাতে ফিরে পাবেন লেফট উইং পজিশনটাও। যা এরই মধ্যে দরিভাল জুনিয়র নিশ্চিত করেছেন। ব্রাজিলের এই বেহাল দশায় রদ্রিগোর সামনে সুযোগ নায়ক হওয়ার। নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ভিড়ে খুঁজে না পাওয়া সেই লাইমলাইটটা নিজের দিকে নিয়ে আসার।
শুক্রবার ভোরে রদ্রিগোর সেই পরীক্ষার ম্যাচ, প্রতিপক্ষ চিলি।
No posts available.
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪০ পিএম
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫০ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে সরাসরি জায়গা করে নিতে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। এমন এক সমীকরণে দাঁড়িয়ে থেকে যে প্রতিপক্ষকে পেতে চাইবে না, সেই গালাতাসারাইকে পেয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। সর্বশেষ কয়েক বছরের পারফরম্যান্সের জন্য তুর্কি ক্লাবটিকে বলা হয় প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর ‘যমদূত’।
আগামীকাল রাতে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় ১৮ ম্যাচে মাঠে নামবে ৩৬ দল। ম্যানচেস্টার সিটি ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাইকে। বুধবার রাতের সবগুলো ম্যাচ এক সঙ্গে মাঠে গড়াবে রাত ২টায়। চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলা সম্প্রচার করে সনি স্পোর্টস।
ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে গালাতাসারাইয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাস দারুণ। প্রিমিয়ার লিগের দলের বিপক্ষে শেষ চার দেখায় তারা অপরাজিত। ইংলিশ কোনো ক্লাবের বিপক্ষে গালাতাসারাইয়ের সর্বশেষ পরাজয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। সেবার ইস্তাম্বুলে আর্সেনালের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল তুরস্কের ক্লাবটি।
২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্বে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলকে পেছনে ফেলে গ্রুপ শেষ করেছিল গালাতাসারই। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অতিথিদের বিপক্ষে দুবার এগিয়ে গিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ম্যান ইউনাইটেড। ২-৩ গোলের পরাজয়েই বিদায় ঘন্টা বেজে গিয়েছিল সে সময়ের এরিক টেন হাগের দলটির।
গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে এরপর তুরস্ক সফরে যায় ম্যান ইউনাইটেড। সে ম্যাচে ১৮ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-৩ গোলের ড্র মেনে মাঠ ছাড়ে রেড ডেভিলরা। গত মৌসুমে ইউরোপা লিগে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া টটেনহ্যাম হটস্পারের একমাত্র গ্রুপ পর্বের হারও এসেছিল এই গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের মৌসুমেই এরই মধ্যে ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে জয় পেয়েছে গালাতাসারাই। ঘরের মাঠে তারা লিভারপুলকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ম্যাচের ১৬ মিনিটের মাথায় ভিক্টর ওসিমেনের একমাত্র পেনাল্টি গোলে জেতে তুর্কি জায়ান্টরা। যে জয়টি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বেশ।
ইংলিশ ক্লাব পেলে জ্বলে ওঠে কেন গালাতাসারাই?
গালাতাসারাইয়ের সহকারী কোচ ইসমাইল গার্সিয়া গোমেজের মতে, এর মূল কারণ তুর্কি লিগের ধরন। বিবিসি স্পোর্টকে তিনি বলেন, ‘তুর্কি লিগ ইংল্যান্ডের বাইরে সবচেয়ে বেশি
‘প্রিমিয়ার লিগ ঘরানার’। এখানে খেলা অনেক বেশি গতিময় ও ট্রানজিশন ভিত্তিক। তাই ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে আমরা স্বচ্ছন্দ।’
গার্সিয়া গোমেজ আরও জানান,
‘স্পেন বা ইতালির তুলনায় তুরস্কে খেলার গতি অনেক বেশি। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের পরিবেশও ইউরোপের সেরা যে কোনো দেশের সঙ্গে তুলনীয়। এই লিগের সমর্থক অনেক। ম্যানচেস্টারেও তার ব্যতিক্রম হবে না। হাজারো গালাতাসারাই সমর্থক হাজির থাকবেন ইতিহাদ স্টেডিয়ামে।’
বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ টেবিলে ম্যানচেস্টার সিটি রয়েছে ১১ নম্বরে। বোদো গ্লিমটের কাছে হারের পর গোল ব্যবধানে তারা সেরা আটের বাইরে। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে আটটি দল অবস্থান করছে খুব কাছাকাছি। আর তালিকার তৃতীয় থেকে ১৫তম দলের ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্টের।
অন্যদিকে গালাতাসারাই ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১৭ নম্বরে। টানা তিন জয়ের পর তারা আবার তিন ম্যাচ ধরে জয়হীন। শীর্ষ আটে ওঠা প্রায় অসম্ভব হলেও হার এড়াতে পারলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হবে।
ম্যানচেস্টার সিটির খেলার ধরন নিয়ে অবশ্য সতর্ক গালাতাসারাই শিবির।
‘সিটি অন্য ইংলিশ দলগুলোর মতো নয়। তারা বলের দখল রাখতে চায়, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।’ বলেন গার্সিয়া গোমেজ। তবুও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই তুর্কি ক্লাবটির। চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ে ঠাসা তাদের স্কোয়াড। পাঁচ ম্যাচে ৬ গোল করা ভিক্টর ওসিমেন আক্রমণের প্রধান ভরসা।
সানে ও গুন্দোয়ান, পুরোনো ঠিকানায় নতুন ভূমিকায়
গালাতাসারাই দলে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির দুই সাবেক তারকা লিরয় সানে ও ইলকাই গুন্দোয়ান। সানে ইতোমধ্যে টানা পাঁচ ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। আর ৩৫ বছর বয়সী গুন্দোয়ানের অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ আলাদা গুরুত্ব এখনো বহন করে।
গার্সিয়া গোমেজ বলেন,
‘সানে ও গুন্দোয়ান আমাদের জন্য বিরাট সংযোজন। গুন্দোয়ানকে গার্দিওলা তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বুদ্ধিমান খেলোয়াড় বলেছেন। এই অভিজ্ঞতা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও দলকে সাহায্য করছে।’
সব মিলিয়ে গালাতাসারাই দলে আছেন ছয়জন সাবেক প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলার। তাদের শক্তি ও গতিময় ফুটবল তুর্কি সুপার লিগে এরই মধ্যে যেমন মানিয়ে গেছে, তেমনি ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষেও কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের জন্য গালাতাসারাইয়ের এই ‘প্রিমিয়ার লিগ ঘরানার’ ফুটবল যে মোটেও স্বস্তির হবে না, তা বলাই বাহুল্য।
তবে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি আরও পয়েন্ট পেতে চাই। এই খেলাটি জিততে চাই এবং দেখাতে হবে আমরা কোথায় থেকে শেষ করতে চাই।’ এই ম্যাচে জিতলে ম্যানসিটির পয়েন্ট হবে ১৬। এই মুহূর্তে সেরা আটে থাকা চেলসির সংগ্রহও ১৩ পয়েন্ট। তবে কত পয়েন্ট হলে সেরা আটে থাকা যাবে সেটি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। গার্দিওলাও জানেন না সেটি। যে কারণে সেই হিসেব নিকেশে না গিয়ে তিনি তার দলের কাছ থেকে টপ পারফরম্যান্স। আর সেটি জয়, তা তো বলাই যায়।

হ্যামস্ট্রিং চোটে প্রায় ১০ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ উইঙ্গার প্যাট্রিক ডরগুকে। গত রোববার প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পান ডরগু। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক হাফ-ভলিতে দলকে এগিয়ে দেন ডেনমার্কের এই ফুটবলার। তবে ম্যাচের শেষদিকে উরুতে ব্যথা নিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ৮১ মিনিটে তাঁকে বদলি হিসেবে তুলে নেন কোচ মাইকেল ক্যারিক।
ম্যাচ শেষে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যারিক প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুতর মনে করেননি। তিনি বলেছিলেন,
‘তার একটু ক্র্যাম্প হয়েছিল। আশা করছি বড় কিছু নয়। এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন, তবে আমরা আশাবাদী।’
পরবর্তী পরীক্ষায় জানা গেছে, চোটটি ধারণার চেয়ে গুরুতর। দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডরগু অন্তত এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে পারেন। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রায় ১০ সপ্তাহ খেলতে পারবেন না। এতে ইউনাইটেডের পরবর্তী আট ম্যাচে তাঁর না খেলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চোটের কারণে ডেনমার্ক জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করতে পারেন ডরগু। মার্চের শেষদিকে নর্থ মেসেডোনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেমিফাইনাল খেলতে না পারার সম্ভাবনা প্রবল। ডেনমার্ক ফাইনালে উঠলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সম্ভাব্য প্লে-অফ ম্যাচটিও তাঁর খেলা হবে না।
ডরগুর জন্য সময়টা ছিল দারুণ ছন্দের। সাবেক কোচ রুবেন আমোরিমের সময়ে উইংব্যাক হিসেবে খেললেও ক্যারিক তাঁকে লেফট উইঙ্গারে সরিয়ে দেওয়ার পর আক্রমণে আরও কার্যকর হয়ে ওঠেন তিনি। আর্সেনালের বিপক্ষে গোলের আগে এক সপ্তাহ আগেই ম্যানচেস্টার ডার্বিতেও জাল কাঁপিয়েছিলেন ডরগু। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ২২ ম্যাচে তাঁর গোল ৩টি, অ্যাসিস্ট ৩টি।
কোচ ক্যারিকের কণ্ঠেও তাই ঝরে প্রশংসা,
‘শেষ কয়েক ম্যাচে আক্রমণে প্যাট আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওর গতি, শক্তি আর মান দলকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।’
ডরগু এখন ইউনাইটেডের চোটের তালিকায় যোগ দিলেন ডিফেন্ডার মাতিয়াস ডি লিটের সঙ্গে। পিঠের সমস্যায় ডে লিট গত ১১ ম্যাচ ধরেই মাঠের বাইরে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচ প্রিমিয়ার লিগে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, যেখানে তারা ঘরের মাঠে ফুলহামের মুখোমুখি হবে। বর্তমানে লিগ টেবিলের শীর্ষ চারেই রয়েছে ক্লাবটি।

নিজের বাগদত্তা জর্জিনা রদ্রিগেজের জন্মদিন উপলক্ষে ভালোবাসা ভরা বার্তা দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় আল-নাসর তারকা লেখেন, ‘আমার জীবনের নারীর জন্মদিন শুভ হোক।’
বান্ধবীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার নিদর্শনের সেই পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল। সেই পোস্টে লাভ রিয়েকশন প্রায় ৩ মিলিয়ন। প্রিয় ফুটবল তারকার সঙ্গীর জন্মদিনে শুভেচ্ছার পসরা সাজিয়েছেন ভক্তরা।
৩২ বছরে পা রাখা জর্জিনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে ‘মেলানিয়া’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে অংশ নেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি। প্রিমিয়ারের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন জর্জিনা।
এই সফরে রোনালদো জর্জিনার সঙ্গে ছিলেন না। সৌদি আরবে নিজের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। সোমবার সৌদি প্রো লিগে আল-তাওউনের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলেছেন রোনালদো। গোল না পেলেও ম্যাচ শেষে উদযাপনে মাতেন তিনি। আগামী শুক্রবার লিগের আরেকটি ম্যাচ সামনে রেখে এখন বিশ্রামে আছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
গত বছরের আগস্টে রোনালদো ও জর্জিনা তাঁদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেন। জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। সামনে ব্যস্ত গ্রীষ্ম অপেক্ষা করছে রোনালদোর জন্য, যেখানে পর্তুগালের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যেতে পারে তাঁকে। সেই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জর্জিনার সঙ্গে একসঙ্গে হোয়াইট হাউস সফর করেছিলেন রোনালদো। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের দেখা যায়।

তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন বুনেছিল বার্সেলোনা। আশার আলো দেখিয়েছিলেন কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও। লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ দ্রো ফার্নান্দেজ অল্প সময়েই নজর কাড়েন ক্লাব স্কাউটদের। ক্লাব ন্যুর জার্সিতে পাঁচটি ম্যাচ খেলেই জানান দেন নিজের সম্ভাবনার কথা। তবে বার্সার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে (পিএসজি) পাড়ি জমালেন এই ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
ফার্নান্দেজকে দলে টানতে ৮.২ মিলিয়ন ইউরো (৭.১ মিলিয়ন পাউন্ড) খরচ করেছে পিএসজি—যা তাঁর ৬ মিলিয়ন ইউরো (৫.২ মিলিয়ন পাউন্ড) রিলিজ ক্লজের চেয়েও বেশি। ক্লাব দুটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয় ফরাসি জায়ান্টরা।
এত বড় এক প্রতিভাকে হারিয়ে হতাশ বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। আর এই ট্রান্সফার ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘অপ্রীতিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা।
আরও পড়ুন
| ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে, বার্নাব্যু নাকি ক্যাম্প ন্যু |
|
কাতালুনিয়া রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা বলেন, “এটা ছিল একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। তাঁর ১৮ বছরে পা রাখার পর কী করা হবে—সে বিষয়ে আমরা ভিন্ন একটি সমাধানে একমত হয়েছিলাম। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁর প্রতিনিধি আমাদের জানায়, আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, সেটি তারা আর বাস্তবায়ন করতে পারবে না।”
২০২২ সালে বার্সেলোনার আঁতুড়ঘর লা মাসিয়াতে যোগ দেন ফার্নান্দেজ। মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক হয়। এরপর আরও চারটি ম্যাচ খেলেন তিনি।
নিজের দলবদল নিয়ে ফার্নান্দেজ বলেন, এটি তাঁর জন্য “অসীম গর্বের এক মুহূর্ত। ”তাঁর ভাষায়, “পিএসজি একটি বিশাল ক্লাব—শৈশব থেকেই যাকে অনুসরণ করেছি এবং যেখানে অনেক মহান কিংবদন্তি ইতিহাস গড়েছেন।”
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগী বার্তায় তিনি লেখেন, “চারটি অবিস্মরণীয় মৌসুম কাটানোর পর আজ আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি নিতে হচ্ছে—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে ক্লাবটি ছিল আমার ঘর, তাকে বিদায় জানানো।”

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু বাকি আর পাঁচ মাস। বিশ্বকাপের ২৩তম আসর শুরু হওয়ার আগে নিশ্চিত হলো ‘গ্রেটেস্ট শো আর্থের’ ২০৩০ সংস্করণের ফাইনালের ভেন্যু। বিশ্বকাপের ২৪তম ফাইনাল আয়োজন করবে স্পেন—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল রাউসান।
ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অবশ্য এখন পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয় যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে সোমবার সংবাদমাধ্যমকে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লাউসান স্পষ্ট করে বলেন, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি স্পেনেই হবে। যদিও কোন শহর বা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
লাউসান বলেন, ‘স্পেনই বিশ্বকাপের নেতৃত্ব দেবে এবং ফাইনাল এখানেই অনুষ্ঠিত হবে।’
তবে তিনি এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু যোগ করেননি।
দীর্ঘদিন ধরেই স্প্যানিশ গণমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সংস্কারকৃত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামকে ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এমন গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল যে, মরক্কো ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে।
মরক্কো চেয়েছিল নির্মাণাধীন হাসান টু স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করতে। ২০২৮ সালে কাজ শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম, যার ধারণক্ষমতা ১ লাখ ১৫ হাজার। তবে চলতি মাসে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মরক্কোর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা তাদের বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বার্সেলোনাও সম্প্রতি তাদের ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম সংস্কার করেছে, আর সেটিও ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে লাতিন আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েও একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে।