৫ জুলাই ২০২৫, ৬:৫১ পিএম
শুরুটা আদর্শ না হলেও পারভেজ হোসেন ইমনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের প্রথম অংশটা ভালোই কাটল বাংলাদেশের। তবে তরুণ এই ব্যাটার পারলেন না ইনিংস বড় করতে। তাওহীদ হৃদয় কিছুটা লড়লেও অন্য ব্যাটারদের কেউই পারলেন সেভাবে অবদান রাখতে। শেষের দিকে দারুণ এক ক্যামিও খেললেন তানজিম হাসান সাকিব। আর এতে ভর করে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে মোটামুটি একটা টার্গেট দিতে পারল সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ২৪৮ রানে। সর্বোচ্চ ৬৭ রান এসেছেন ইমনের ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের জন্য শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি। তৃতীয় ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান তামিম। আসিথা ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারি তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেন মাত্র ৭ রান।
আরও পড়ুন
তানভীরের ফাইফার, রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজে টিকে রইল বাংলাদেশ |
![]() |
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইমন মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় উইকেটে একশ’র বেশি স্ট্রাইক রেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন এই দুজন, যেখানে বেশি ইতিবাচক ছিলেন ইমনই। জুটি যখন জমে উঠছিল, তখন অফ স্পিনার চারিথ আসালাঙ্কাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত, তার আগে ১৪ রান করেন ১৯ বলে।
তবে ছন্দময় ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের চাপে রাখেন ইমন৷ চল্লিশ থেকে পঞ্চাশে পা রাখেন পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির পর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি। ভানিন্দু হাসারাঙ্গার গুগলিতে বোল্ড হয়ে থামে তার ইনিংস। তবে তার আগে তরুণ এই ওপেনার উপহার দেন ৬৯ বলে ৬৭ রানের দারুণ এক ইনিংস।
লিটন দাস একাদশের বাইরে থাকায় প্রমোশন পেয়ে পাঁচে নামেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে পারেননি পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে। ৯ রানে দুশমন্থ চামিরার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন ডানহাতি এই ব্যাটার।
তাওহীদ একপ্রান্ত আগলে ব্যাট করেন খোলসবন্দী হয়েই। অনেকদিজ পর ওয়ানডে দলে ফেরা শামীম হোসেন অবশ্য ছিলেন ইতিবাচক। ব্যাট করেন ১০০ স্ট্রাইট রেটে। তবে শর্ট বলের ট্র্যাপে তাকে ফেলেন আসিথা ফার্নান্দো। ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ২ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রান করে।
শামীমের আউটে চাপ আরও বাড়ে বাংলাদেশের ওপর। জাকের আলি অনিককে নিয়ে সেটা মোকাবেলা করার পথে তাওহীদ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২৫তম ব্যাটার হিসেবে ১ হাজার রানের ক্লাবে পা রাখেন। এই মাইলফলক স্পর্শ করতে তার লেগেছে ৩৩ ইনিংস। তার চেয়ে চেয়ে কম ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছেন কেবল দুই ব্যাটার, শাহরিয়ার নাফিস ও এনামুল হক বিজয়। দুজনেরই লেগেছিল ২৯ ইনিংস।
আরও পড়ুন
এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে গেল ভারতের বাংলাদেশ সফর |
![]() |
রয়েসয়ে খেলা জাকেরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আসিথা ফের চাপে ফেলেন বাংলাদেশকে। তাওহীদের ওপর তাতে দায়িত্ব বর্তায় দলকে ভালো একটা স্কোর এনে দেওয়ার। তবে তিনিও হন ব্যর্থ, যদিও ভাগ্যকে দুষতেই পারেন তিনি।
আসিথার বলে ডিপ মিড উইকেটে ঠেলে দুই রান নিতে চেয়েছিলেন তাওহীদ। শুরুটা সাড়া দিলেও পরে ফিরে যান তানজিম হাসান সাকিব। মাঝপথে গিয়েই আর ক্রিজে ফেরার সুযোগই পাননি তাওহীদ। রান আউটে শেষ হয় তার ২ বাউন্ডারিতে সাজানো ৫১ রানের ইনিংস।
সেই সময়ে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যাবে ২২০ রানের মধ্যেই। তবে সেটা হতে দেননি তানজিম। চোখজুড়ানো সব চার-ছক্কার বাহারে ভড়কে দেন প্রতিপক্ষকে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার এক ওভারে দুই চারের পর এক লেগ স্পিনারের স্পেলের শেষ ওভারে হাঁকান দুই ছক্কা। তবে ৪৯তম ওভারেই মুস্তাফিজুরকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন হাসারাঙ্গা। ২১ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে যান তানজিম।
৩০ আগস্ট ২০২৫, ৭:৪৫ পিএম
৩০ আগস্ট ২০২৫, ৭:০৯ পিএম
রোহিত শর্মার অবসরের পর ভারতের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক কে হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু ধরেই চলছে আলোচনা। অভিজ্ঞ ব্যাটারের বয়স ৩৮ পেরিয়েছে আরও কয়েক মাস আগে। ফলে সামনের দিনগুলোতে ভারতীয় দলকে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
দেশটির সাবেক বাঁহাতি ব্যাটার সুরেশ রায়নার মতে, ওয়ানডেতে ভারতের পরবর্তী অধিনায়ক হওয়া উচিত অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনা জানান রায়না।
“শুবমান গিল পরে কখনও অধিনায়ক হতে পারে। তবে আমি মনে করি, ভারতের হয়ে হার্দিক পান্ডিয়াই সাদা বলের ক্রিকেটে অনেক কিছু করবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব জায়গাতেই দলে অবদান রাখতে পারে। তার শরীরে কপিল দেবের মতো স্পিরিট আছে আর মাঠে তার উপস্থিতি আমাকে ধোনির কথা মনে করিয়ে দেয়।”
আরও পড়ুন
জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শক্ত পাইপলাইনের আশা |
![]() |
অধিনায়ক হিসেবে হার্দিকের সাফল্য নতুন নয়। ২০২২ সালে আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সকে প্রথম মৌসুমেই শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। সেই বছর ফাইনালে ব্যাট হাতে ৩৪ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
২০২৩ সালেও গুজরাটকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। আইপিএলে তার এই সাফল্য অনেককে বিশ্বাস করিয়েছে, জাতীয় দলের নেতৃত্ব সামলানোর সামর্থ্য তার রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হার্দিক এখন পর্যন্ত ৯৪ ওয়ানডে খেলেছেন। ব্যাট হাতে করেছেন ১,৭৭৪ রান, গড় ৩৩.৫৯। বোলিংয়ে নিয়েছেন ৯১ উইকেট, ইকোনমি রেট ৫.৬০। টি-টোয়েন্টি এরই মধ্যে ১৬ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। আর ওয়ানডেতে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তিন ম্যাচের।
দারুণ ছন্দে থাকা তাসকিন আহমেদ উপহার দিলেন আরেকটি জাদুকরী পারফরম্যান্স। তাকে চমৎকার সঙ্গ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফ হাসান। সব মিলিয়ে নেদারল্যান্ডসকে মাত্র ১৩৬ রানে আটকে রাখল বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ১৩৭ রানের।
চমৎকার বোলিং করা তাসকিনের শিকার ২৭ রানে ৪ উইকেট। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে ৩ বা এর বেশি উইকেট নিলেন অভিজ্ঞ পেসার। সব মিলিয়ে সবশেষ ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার শিকার ১৬টি উইকেট।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের বোলিংয়ে ৩ রানের বেশি নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর ঝড় তোলেন ও'ডাউড। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনটি চার মারেন ডাচ ওপেনার।
আরও পড়ুন
ক্রোয়েসকে ফিরিয়ে তাসকিনের ৪ উইকেট |
![]() |
মেহেদির পরের ওভারে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মেরে দেন ও'ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনারের সৌজন্যে ভালো শুরুর আশা দেখতে শুরু করে সফরকারীরা।
তবে ও'ডাউডকে টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই তাকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠান অভিজ্ঞ পেসার।
তার স্টাম্পের ওপর করা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টায় লিডিং এজ হয় ও'ডাউডের। শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ নেন জাকের আলি অনিক। উল্লাসে ফেটে পড়েন তাসকিন।
৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২৩ রান করে ফেরেন ও'ডাউড।
পঞ্চম ওভারে আবার আক্রমণে আসেন শরিফুল। আগের ওভারে ১৩ রান খরচ করা তরুণ পেসার ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। এবার কোনো রানই দেননি তিনি। করেন মেডেন ওভার।
পরে পাওয়ার শেষ ওভারে উইকেটের সম্ভাবনা জাগান মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু কাভারে অল্পের জন্য ক্যাচ নাগাল পাননি তাওহিদ হৃদয়। তাই বেঁচে যান তেজা নিদামানুরু।
প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান করে ফেলেছিল নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে পরের ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করেছে বাংলাদেশ।
পরে অষ্টম ওভারে বিক্রমজিতকে ফিরিয়ে আবার আনন্দে ভাসেন তাসকিন। নিজের প্রথম ওভারের মতো দ্বিতীয় ওভারেও প্রথম বলে উইকেট নেন অভিজ্ঞ পেসার। মাত্র ১১ বলে ৪ রান করে ফেরেন বিক্রমজিত।
আরও পড়ুন
তাসকিনের তৃতীয় শিকার কাইল ক্লেইন |
![]() |
এরপর মাত্র ১৫ বলে ২৮ রানের জুটিতে রানের গতি বাড়ান এডওয়ার্ডস ও নিদামানুরু। কিন্তু সাইফ হাসানের জোড়া আঘাতে আবার চাপে পড়ে যায় তারা।
দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন লিটন কুমার দাস। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যান দীর্ঘ দিন পর খেলতে নামা সাইফ। তবে চতুর্থ বলেই তিনি পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর অবশেষে প্রথম উইকেটের দেখা পান সাইফ।
বলটি অবশ্য তেমন ভালো ছিল না। লেগ স্টাম্পের বলের প্রাপ্য সাজা দিতেই সুইপ করেন এডওয়ার্ডস। মনে হচ্ছিল বাউন্ডারি পেয়েই যাবেন। কিন্তু ডিপ স্কয়ার লেগে অনেক দৌড়ে শেষ মুহূর্তে ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন জাকের।
১ চারে ৭ বলে ১২ রান করে আউট হন এডওয়ার্ডস।
ওই ওভারের শেষ বলে আরেক সেট ব্যাটসম্যান তেজা নিদামানুরুকেও আউট করেন সাইফ। বড় শটের খোঁজে ডিপ মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন ২৬ বলে ২৬ রান করা নিদামানুরু।
এক ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। ১৩তম ওভারে উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন মুস্তাফিজুর রহমান। শরিজ আহমাদকে ফিরিয়ে দেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার।
১৩ ওভারের মধ্যেই তিনটি ক্যাচ নিয়ে ফেলেন জাকের আলি অনিক। ওভারের পঞ্চম বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয় শরিজের। শর্ট মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন কিছুক্ষণ আগেই দুর্দান্ত আরেক ক্যাচ নেওয়া জাকের। ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন শরিজ।
আরও পড়ুন
জাকেরের তৃতীয় ক্যাচ, মুস্তাফিজের প্রথম উইকেট |
![]() |
এরপর আবার তাসকিনের জোড়া শিকার। ১৬তম ওভারে আক্রমণে ফিরে তিনি আউট করেন কাইল ক্লেইনকে। স্লোয়ার ডেলিভারিতে আগেই ব্যাট চালিয়ে ফেলেন ক্লেইন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায় ওপরে।
লং অন থেকে অনেকটা ভেতরে এসে সহজ ক্যাচ নেন তাওহিদ হৃদয়। ১২ বলে ৯ রান করে আউট হন ক্লেইন।
১৮তম ওভারে নিজের কোটার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলে আঘাত করেন তাসকিন। বড় শটের খোঁজে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন ক্রোয়েস। এক্সট্রা কাভারে সহজ ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন ক্রোয়েস।
শেষ দিকে টিম প্রিঙ্গেল ১৪ বলে ১৬ ও আরিয়ান দত্ত ৮ বলে ১৩ রান করলে লড়াইয়ে পুঁজি পায় নেদারল্যান্ডস।
শেষ ওভারে উইকেট পেলেও দুই চারে ১২ রান দিয়ে ফেলেন তাসকিন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তার শিকার ৪ উইকেট।
এছাড়া ২ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সাইফ। কিপটে বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন মুস্তাফিজ।
নিজের প্রতি ওভারে একটি করে উইকেট নিলেন তাসকিন আহমেদ। দুই ওভারের প্রথম স্পেলে দুই ওপেনার ম্যাক্স ও'ডাউড ও বিক্রমজিত সিংকে আউট করেন অভিজ্ঞ পেসার। এবার শেষের দুই ওভারে তার শিকার কাইল ক্লেইন ও নোয়াহ ক্রোয়েস।
১৮তম ওভারে নিজের কোটার শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলে আঘাত করেন তাসকিন। বড় শটের খোঁজে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন ক্রোয়েস। এক্সট্রা কাভারে সহজ ক্যাচ নেন সাইফ হাসান।
১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন ক্রোয়েস।
শেষ ওভারে উইকেট পেলেও দুই চারে ১২ রান দিয়ে ফেলেন তাসকিন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তার শিকার ৪ উইকেট।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৮ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১১৬ রান।
ক্রিজে দুই ব্যাটসম্যান টিম প্রিঙ্গেল ও আরিয়ান দত্ত।
প্রতি ওভারে উইকেট নেওয়ার উৎসবে নেমেছেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম দুই ওভারের মতো নিজের তৃতীয় ওভারেও সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার। এবার তিনি ফিরিয়েছেন মিডল-অর্ডার ব্যাটার কাইল ক্লেইনকে।
তাসকিনের স্লোয়ার ডেলিভারিতে আগেই ব্যাট চালিয়ে ফেলেন ক্লেইন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায় ওপরে। লং অন থেকে অনেকটা ভেতরে এসে সহজ ক্যাচ নেন তাওহিদ হৃদয়। ১২ বলে ৯ রান করে আউট হন ক্লেইন।
আরও পড়ুন
জাকেরের তৃতীয় ক্যাচ, মুস্তাফিজের প্রথম উইকেট |
![]() |
নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তাসকিনের শিকার ৩ উইকেট।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান টিম প্রিঙ্গেল। নোয়াহ ক্রোয়েস ১০ বলে ৬ রানে অপরাজিত।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৬ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১০২ রান।
উইকেট শিকারের উৎসবে এবার যোগ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি ব্যাটার শরিজ আহমাদকে ফিরিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার। আর ১৩ ওভারের মধ্যেই তিনটি ক্যাচ নিয়ে ফেললেন জাকের আলি অনিক।
১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয় শরিজের। শর্ট মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন কিছুক্ষণ আগেই দুর্দান্ত আরেক ক্যাচ নেওয়া জাকের। ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন শরিজ আহমাদ।
ক্রিজে এখন দুই ব্যাটসম্যান নোয়াহ ক্রোয়েস ও কাইল ক্লেইন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৭ রান।
আরও পড়ুন
জাকেরের দুর্দান্ত ক্যাচ, সাইফের জোড়া শিকার |
![]() |
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের বোলিংয়ে ৩ রানের বেশি নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর ঝড় তোলেন ও'ডাউড। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনটি চার মারেন ডাচ ওপেনার।
মেহেদির পরের ওভারে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মেরে দেন ও'ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনারের সৌজন্যে ভালো শুরুর আশা দেখতে শুরু করে সফরকারীরা।
তবে ও'ডাউডকে টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই তাকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠান অভিজ্ঞ পেসার।
তার স্টাম্পের ওপর করা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টায় লিডিং এজ হয় ও'ডাউডের। শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ নেন জাকের আলি অনিক। উল্লাসে ফেটে পড়েন তাসকিন।
৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২৩ রান করে ফেরেন ও'ডাউড।
আরও পড়ুন
আবারও প্রথম বলে তাসকিনের উইকেট |
![]() |
পঞ্চম ওভারে আবার আক্রমণে আসেন শরিফুল। আগের ওভারে ১৩ রান খরচ করা তরুণ পেসার ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। এবার কোনো রানই দেননি তিনি। করেন মেডেন ওভার।
পরে পাওয়ার শেষ ওভারে উইকেটের সম্ভাবনা জাগান মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু কাভারে অল্পের জন্য ক্যাচ নাগাল পাননি তাওহিদ হৃদয়। তাই বেঁচে যান তেজা নিদামানুরু।
প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান করে ফেলেছিল নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে পরের ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করেছে বাংলাদেশ।
পরে অষ্টম ওভারে বিক্রমজিতকে ফিরিয়ে আবার আনন্দে ভাসেন তাসকিন। নিজের প্রথম ওভারের মতো দ্বিতীয় ওভারেও প্রথম বলে উইকেট নেন অভিজ্ঞ পেসার। মাত্র ১১ বলে ৪ রান করে ফেরেন বিক্রমজিত।
এরপর মাত্র ১৫ বলে ২৮ রানের জুটিতে রানের গতি বাড়ান এডওয়ার্ডস ও নিদামানুরু। কিন্তু সাইফ হাসানের জোড়া আঘাতে আবার চাপে পড়ে যায় তারা।
আরও পড়ুন
পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত বাংলাদেশ |
![]() |
দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন লিটন কুমার দাস। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যান দীর্ঘ দিন পর খেলতে নামা সাইফ। তবে চতুর্থ বলেই তিনি পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর অবশেষে প্রথম উইকেটের দেখা পান সাইফ।
বলটি অবশ্য তেমন ভালো ছিল না। লেগ স্টাম্পের বলের প্রাপ্য সাজা দিতেই সুইপ করেন এডওয়ার্ডস। মনে হচ্ছিল বাউন্ডারি পেয়েই যাবেন। কিন্তু ডিপ স্কয়ার লেগে অনেক দৌড়ে শেষ মুহূর্তে ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন জাকের।
১ চারে ৭ বলে ১২ রান করে আউট হন এডওয়ার্ডস।
ওই ওভারের শেষ বলে আরেক সেট ব্যাটসম্যান তেজা নিদামানুরুকেও আউট করেন সাইফ। বড় শটের খোঁজে ডিপ মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন ২৬ বলে ২৬ রান করা নিদামানুরু।
৪ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৭ দিন আগে
৯ দিন আগে
৯ দিন আগে
১১ দিন আগে
১১ দিন আগে
১৩ দিন আগে
১৩ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৫ দিন আগে
১৬ দিন আগে