১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২৮ পিএম

ভারত সফরে আসার আগে বাংলাদেশ দল মাত্রই খেলে এসেছিল পাকিস্তানে। সেখানে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানকে প্রথমবার টেস্টে হারানোর পর সিরিজেও হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তবে উড়তে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে মাটিতে নামিয়ে আনে ভারত। ধবলধোলাই করেছে সফরকারীদের৷ আর এই কারণে না খেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান দল।
এবারের পাকিস্তান সফরের আগে দলটিকে লাল বলের ক্রিকেটে হারাতেই পারেনি বাংলাদেশ। সেখান থেকে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে পূর্ণ শক্তির পাকিস্তানকে দুই টেস্টে সহজেই হারিয়ে দেয় সাকিব-মিরাজরা। অথচ সেই একই দল ভারতের সাথে কোনো লড়াই করতে পারেনি। দুই টেস্টেই হেসেখেলে জিতেছে রোহিত শর্মার দল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'এক্স' প্ল্যাটফর্মে তাই পাকিস্তান দলের সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। একজন লিখেছেন, “এই বাংলাদেশ দলের কাছ হারার জন্য পাকিস্তানকে কতটা খারাপ ক্রিকেট খেলতে হয়েছে?”
অনেকেই আবার দাবি তুলছেন পাকিস্তানকে ক্রিকেট খেলা থেকেই নিষিদ্ধ করে দেওয়ার। যেমনটা লিখেছেন সোহা নামের এক ক্রিকেট সমর্থক, “বাংলাদেশ দলের কাছে হারের জন্য পাকিস্তানকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত!!!!!!!”
প্রায়ই একই সুরে টুইট করেছেন আরও অনেকেই। এই ক্ষোভের পেছনে মূল কারন বলা যেতে পারে কানপুর টেস্ট। বৃষ্টির কারনে দুই দিন ভেসে যাওয়া ম্যাচেও বাংলাদেশ হেরে গেছে ৭ উইকেটে। আর প্রথম ম্যাচে পরাজয় ছিল ২৮০ রানে।
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম

২৪ ঘণ্টার মধ্যে অম্ল-মধুর
দুই ঘটনার সাক্ষী হলেন নাসির
হোসেন। বুধবার বিপিএলে ৯০ রানের
ইনিংসের পাশাপাশি এক উইকেট
নিয়েছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের
অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। অথচ বৃহস্পতিবার ভুলে যাওয়ার
মতো দিন পার
করলেন। ব্যাট-বলে
ব্যর্থতার দিনে ঢাকার
বিপক্ষে ২০ রানে
জিতেছে সিলেট টাইনাস।
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের সন্ধ্যার ম্যাচে আগে ব্যাটিং
করে ১৮০ রান
সংগ্রহ দাঁড় করায়
সিলেট। জবাব দিতে
নেমে ভালো শুরুর
পরও শেষটা সুন্দর হয়নি ঢাকা
ক্যাপিটালসের। নির্ধারিত ২০ ওভারে
১৬০ রান তুলতে
পারে তারা।
বুধবার চট্টগ্রামের কাছে হেরে
টাইটেল রেসে পিছিয়ে
পড়েছিল সিলেট। ৭ ম্যাচে
তিন জয়ে তাদের
পয়েন্ট দাঁড়ায় ৭। আজ ঢাকাকে হারিয়ে তিনে উঠে
গেল তারা। সমান
পয়েন্ট হলেও রান
রেটে পিছিয়ে থাকায় চারে নেমে
গেল নাজমুল হাসান শান্ত নেতৃত্বাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দ্বিতীয়তে রংপুর রাইডার্স।
এদিন সর্বসাকুল্যে ১৫০-১৬০
রানের মধ্যে আটকা পড়ার
উপক্রম হয়েছিল সিলেটের। অথচ ১৯ ও ২০তম ওভারে
হিসাব বদলে দেন
মইন আলি ও ইথান ব্রুকস। ১৯তম ওভারে
নাসিরের এক ওভারে
২৮ রান তোলেন
ইংলিশ অলরাউন্ডার। তিনটি ছক্কা ও দুইটি
চার মারেন তিনি। আউট
হওয়ার আগ পর্যন্ত
৮ বলে করেন
২৮ রান।
২০তম ওভারে ১৬ রান
খরচ করেন সিলেটের
মিডিয়াম পেসার জিয়াউর রহমান। ওভারের চতুর্থ বলে অবশ্য
মইন আলীকে ফেরান তিনি। তবে
এই ওভারে মূল তাণ্ডবটা
চালান ব্রুকস ও মেহেদী
হাসান মিরাজ। দুজন দুটি
করে ছক্কা হাঁকান। তাতেই ১৮০ রান পুঁজি পায় সিলেট।
টুর্নামেন্টে তৃতীয় জয় পেতে
ওভারপ্রতি ৯ রান
করে প্রয়োজন পড়তো রাজধানীর
দল ঢাকার। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল্লাহ
আল মামুনের জুটিতে বেশ ভলোই
শুরু ছিল তাদের। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে মামুন ফিরলেও রানচাকা সচল রাখে
ঢাকা। ৫৭ রান
আসে ৬ ওভারে।
দলীয় ৫৬-৬৭ রানে ধাক্কা লাগে ঢাকা
শিবিরে—এসময়ে ১১ রান
তুলতেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে
হারিয়ে বসে তারা। তাতে থিতু হয়ে
পড়ে রান চাকা। দুঃসময় থেকে সাইফ
হাসানকে নিয়ে দলকে
উদ্ধার করেন রহমানউল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে
করেন ৩৭ রান। ব্যক্তিগত ৫১ রানে
গুরবাজ ফিরলে জুটি ভাঙে।
গুরবাজ ফেরার পর ফের
ধাক্কা লাগে ঢাকার
পালে। আবারও একে একে
ফেরেন সাইফ হাসান, মোহাম্মদ মিথুন ও ইমাদ
ওয়াসিম। শেষ দিকে
ইমাদ ওয়াসিম ও সাব্বির
রহমান চেষ্টা চালিয়েছেন বৈকি। তবে
তা দলের জয়ের
জন্য যথেষ্ট ছিল না।
সালামান ইরশাদ ও আজমতউল্লাহর
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ওভারে
ঢাকার প্রয়োজন পড়ে ৩১ রান। তবে এ ওভারে১০ রান তুলতে
পারে ঢাকার সাব্বির রহমান। ২০ রান
দূরে থামে তাদের
যাত্রা।
সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সালমান
ইরশাদ। দুটি উইকেন
নেন মইন আলী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট টাইটানস: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (আরিফুল ৩৮, আজমতউল্লাহ ৩৩, পারভেজ ৩২, মঈন ২৮; জিয়াউর ৩/৩৫, সাইফ ১/১৬)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬০/৮ (রহমানউল্লাহ ৫১, সাব্বির ২৫:সালমান ৩/২৫, মইন২/২০)
ফল: ২০ রানে জয়ী সিলেট
ম্যাচসেরা: মইন আলি

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরে সপ্তম ফ্রাঞ্চাইজি হিসেবে অংশ নেবে হায়দরাবাদ। ১৭৫ কোটি রুপিতে ফ্রাঞ্চাইজিটির মালিকানা স্বত্ব নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এফকেএস গ্রুপ।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ পিএসএলের ফ্রাঞ্চাইজি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে নতুন দল হিসেবে হায়দরাবাদের নাম তোলা হয়।
হায়দরাবাদের বিডিং প্রাইস ছিল ১ মিলিয়ন রুপি। শেষ পর্যন্ত ফ্রাঞ্চাইজিটির দাম ওঠে ১৭৫ কোটি রুপি। ফাইনাল বিটে দলটিকে কিনে নেয় এফকেএস গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিএসএলের সিইও সালমান নাসের । তিনি পিএসএল ম্যানজম্যান্টের প্রশংসা করেন।
নাসের বলেন, ‘পিএসএল শুধু টিকেই থাকেনি বরং ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এরজন্য তিনি ফ্রাঞ্চাইজি ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠান প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’
ম্যানেজম্যান্ট ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রশংসার পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির প্রশংসা করেন নাসের।
এই নিলামের মাধ্যমে পিএসএলে নতুন করে দুইটি দল যোগ করার কাজ শুরু হয়েছে। আগে মুলতান সুলতানসের মালিক ছিলেন আলী তারিন। কিন্তু তিনি নিলাম থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর ৯টি গ্রুপ নিলামে অংশ নেয়।
২০২৬ মৌসুমে যারা নিলামে দল জিতবে, তারা রাওয়ালপিন্ডি, হায়দরাবাদ, ফয়সালাবাদ, গিলগিট, মুজাফফরাবাদ অথবা শিয়ালকোট—এই শহরগুলোর যেকোনো একটির নামে দল রাখতে পারবে।
পিএসএলের ১১তম সংস্করণ শুরু ২৬ মার্চ। চলবে ৩ মে পর্যন্ত। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হতে পারে প্লেয়ার ড্রাফট।

৬, ২, ৬, ৪, ও ৬- নাসির হোসেনের ওভারে এমনই তাণ্ডব চালালেন মইন আলি। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে উইকেটের চারপাশে বাউন্ডারির পসরা সাজিয়ে এক ওভারেই ২৮ রান নিলেন সিলেটবাসীর প্রিয় ‘দুলাভাই।’
বিপিএল খেলতে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই ‘সিলেটের জামাই’ বা ‘সিলেটের দুলাভাই’ ডাকটি প্রায়ই শুনছেন মইন আলি। গত সোমবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার পর গ্যালারিতে চলতে থাকে ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগান।
মূলত ইংলিশ এই অলরাউন্ডারের স্ত্রীর সিলেটের বাসিন্দা। তাই তাকে ভালোবেসেই ‘জামাই’ বা ‘দুলাভাই’ নামে ডাকেন সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এবার তাদেরকে চার-ছক্কার ভালোবাসাই উপহার দিলেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ম্যাচে ১৮তম ওভারে ক্রিজে যান মইন। ওই ওভারে এক বল খেলে রান নিতে পারেননি। তবে পরের ওভারেই তিনি ধারণ করেন রুদ্রমূর্তি। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হন নাসির।
অথচ নিজের প্রথম ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ৭ রান খরচ করে তৌফিক খান তুষারের উইকেটও নেন নাসির। কিন্তু ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই বিপদ ডেকে আনেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
ওভারের প্রথম বলই ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কায় ওড়ান মইন। পরের বল থেকে আসে ২ রান। তৃতীয় বলে তিনি মারেন বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে আবার মারেন ছক্কা। পঞ্চম বলে ওয়াইড লং দিয়ে আসে চার। শেষ বল লং অন দিয়ে মারেন ছক্কা।
নাসিরের ওভারের ২৮ রান ছাড়া আর কিছু অবশ্য করতে পারেননি মইন। শেষ ওভারে জিয়াউর রহমান শরিফির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তিনি। মাত্র ৮ বলে ৩৫০ স্ট্রাইক রেটে খেলেন ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস।
বিপিএল ইতিহাসে অন্তত ৮ বলের ইনিংসে এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট আছে শুধু আন্দ্রে রাসেল (৩৫৮.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ১২ বলে ৪৩*) ও সুনিল নারিনের (৩৫৬.২৫ স্ট্রাইক রেটে ১৬ বলে ৫৭)।
মইনের ঝড়েই শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৮০ রান করতে পারে সিলেট টাইটান্স। এর মধ্যে শেষ দুই ওভার থেকেই তারা পায় ৪৫ রান।
২৯ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন বিপিএল অভিষিক্ত ব্যাটার আরিফুল ইসলাম। এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ২৪ বলে ৩২ ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২৩ বলে খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস।
ঢাকার পক্ষে ৩ উইকেট নেন জিয়াউর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (ইমন ৩২, তুষার ১৭, আরিফুল ৩৮, আফিফ ৬, ওমরজাই ৩৩, মইন ২৮, ব্রুকস ৯*, মিরাজ ৭*; ইমাদ ৪-০-২০-১, তাসকিন ৩-০-৩৯-০, সাইফ উদ্দিন ৩-০-২৮-০, জিয়াউর ৪-০-৩৫-৩, নাসির ৪-১-৩৫-১, সাইফ ২-০-১৬-১)

পাকিস্তানের বর্তমান পেস সেনশনের লিস্ট করলে এক-দুইয়ে থাকবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। একে একে সালমান মির্জা ও মোহাম্মদ ওয়াসিমদের নাম আসবে। পাকিস্তানের এই পেসারদের নিশ্চয়ই একজন আইডল আছেন।
থাকলে তাঁরা কারা?
শাহিন সেদিন ঘটা করেই বলে দিলেন, মিচেল স্টার্ক তাঁর পছন্দের অন্যতম। অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের দেখেই তিনি ক্রিকেটে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী স্টার্ক। এরপরই শাহিন জানান, স্টার্ক তরুণদের জন্য আদর্শ।
স্টার্ককে পছন্দের আরও কারণ আছে। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট বাঁহাতি পেসার। ৪৩৩ উইকেট তাঁর। গ্লেন ম্যাকগ্রার উইকেট ৫৬৩। ধারাবাহিক পারফর্মে এই রেকর্ডটাও নিশ্চয়ই টপকে যাবেন স্টার্ক।
আজ শেষ হওয়া অ্যাশেজে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি স্টার্ক। ১০ ইনিংসে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৩১টি। সিরিজে দুটি ফিফটি রয়েছে তাঁর। প্রাণবন্ত এমন পারফরম্যান্সর সুবাধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মাসসেরার তালিকায় রয়েছেন স্টার্ক।
অথচ ক্রিকেটে ৩৫ বর্ষী স্টার্কের উত্থান হয়েছিল একজন উইকেটকিপার হিসেবেই। এই ভূমিকাটি হয়তো তাঁর মধ্যে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা ও মনোযোগ গড়ে তুলেছিল। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো এক কিশোর থেকে নিজের সময়ের অন্যতম রোমাঞ্চকর ফাস্ট বোলারে পরিণত হওয়ার এই রূপান্তরটি অস্ট্রেলীয় ক্রীড়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিকাশগাথাগুলোর একটি।
২০১৫ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা ছিলেন স্টার্ক। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার টাইটেল জয়ের অন্যতম সারথী ছিলেন। ২০১৭ সালে শেফিল্ড শিল্ডে টাইটাইল জেতান। টুর্নামেন্টে এক ম্যাচে জোড়া হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি।
স্টার্কের এমন ধারাবাহিকতার মূলে সময়ানুবর্তিতা ও কঠোর পরিশ্রম। বেসবল কিংবদন্তী নোলান রায়ানকে সুক্ষ্ণভাবে অনুসরণ করেছেন তিনি। রায়ান তাঁর ক্যারিয়ার ২৭বছর পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন। সে পথেই স্টার্ক।
স্টার্ক হোম জিম তৈরি করেছেন এবং নিজের ওজন ও শক্তি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। যার ফলে এখন ১৫০ কিলোমিটার বেগে বল ছুঁড়তে পারেন তিনি। ব্যাট হাতেও কম যান না স্টার্ক। ব্রিসবেন টেস্টে ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৭ রানের ইনিংস কিংবা অ্যাডিলেডে ৫৫ রান। বারবারই প্রমাণ করে দেয় স্টার্ক দলের জন্য কতটা নিবেদিত প্রাণ।

অ্যাশেজে আগুন ঝরা বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে আইসিসির মাসসেরার মনোনয়ন পেলেন মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার এই ফাস্ট বোলার আজই হয়েছিলেন অ্যাশেজের সিরিজসেরা। এবার দুর্দান্ত বোলিংয়ের আরও একটি স্বীকৃতির লড়াইয়ে নির্বাচিত হলেন স্টার্ক।
আজ আইসিসির ঘোষিত ডিসেম্বরের মাস সেরার মনোনয়নে তিন জনের তালিকায় স্টার্কের সঙ্গে আছেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস।
সদ্য সমাপ্ত অ্যাশেজ সিরিজে রীতিমতো ত্রাস ছড়িয়ে ৩২ উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে ডিসেম্বরে তিনটি টেস্টে বাঁহাতি এই পেসার নিয়েছেন ১৬টি উইকেট। প্রথম তিন ম্যাচে ব্যাট হাতেও ১৩৯ রান করে দলের জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ব্রিসবেন টেস্টে ৮ উইকেট নেওয়ার সঙ্গে ৭৭ রান করে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। এছাড়াও সিরিজ নির্ধারণী অ্যাডিলেড টেস্টে ৩৫ বছর বয়সী ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।
মাসসেরার দৌড়ে থাকা আরেক পেসার জ্যাকব ডাফিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ে হন সিরিজসেরা। ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে ঘরের মাঠে কিউই এই পেসার নিয়েছেন ২৩ উইকেট।
একই সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য ড্রয়ের অন্যতম নায়ক জাস্টিন গ্রিভসও আছেন সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে এই ব্যাটার খেলেন ২০২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। সিরিজের মোট তিনটি টেস্টে ৫৬.৬০ গড়ে ২৮৩ রানের সঙ্গে বল হাতে শিকার করেন পাঁচ উইকেট।
মেয়েদের বিভাগে মাসসেরার মনোনয়ন পেয়েছেন লরা উলভার্ট, সুনে লুস ও শেফালি বর্মা। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার উলভার্ট আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডেতে ২৫৫ রান করেন (স্ট্রাইক রেট ১১১.৮৪)। এছাড়া দু’টি টি-টোয়েন্টিতে ১৯০ স্ট্রাইকরেটে ১৩৭ রান করেন তিনি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খেলেন ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। ওয়ানডে সিরিজে ১২৪ ও ১০০* রান করে হন প্লেয়ার অফ দ্যা সিরিজ।
দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ক্রিকেটার সুনে লুস আয়ারল্যান্ড সিরিজে তিনটি ওয়ানডেতে ২০৫ রান ও ৪ উইকেট নেন। আর কুড়ি ওভারের সিরিজে ১১৮ রান ও ৪ উইকেট সংগ্রহ করেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে দারুণ অবদান রেখে সিরিজ সেরা হন শেফালি বর্মা। ঘরের মাঠে এই সিরিজে ১৮১.২০ স্ট্রাইকরেটে তিন ফিফটিতে মোট ২৪১ রান করেন তিনি।